দুপুর দুইটা দশে মেয়েটা সাজগোছ করে হাসিমুখে বের হয়েছিল স্বামীর সাথে একুশের বিকেলে কোথাও ঘুরতে যাবে বলে। কালো শাড়ি নাকি নীল শাড়ি পড়া হবে তাই নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া।স্বামীর ইচ্ছে নীল। শেষ অবধি কালো শাড়ি ঠিক হল।বের হবার ঠিক আগেই শাড়িটা নীল হয়ে গেল। ছেলেটাকে রাগাতে পেরে মেয়েটার মুখে তখন হাসি।
দুইটা চল্লিশে সেই মেয়েটা হাসিমুখে হাউজ বিল্ডিং এর লোকাল সিএনজিতে ড্রাইবারের সাথে সামনের সিটে বসেছিল স্বামীর সাথে। ছোট সিটটায় দুইজন বসতে কষ্ট হলেও মেয়েটা শক্ত করে ছেলেটার কাধ ধরে রেখেছিল। মেয়েটার মুখে তখনো হাসি।
তিনটা পঞ্চাশ এ প্রচণ্ড গরমে যখন মেয়েটার মুখের সাঝ ঘামের কারনে অনেকটা চলে গিয়েছিল তখন তারা বড় সিএনজিটা থেকে নামে। স্বামী ভাড়া দেয়ার সময় একটু আড়াল করে ঠোটের লিপিস্টিক আর চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করে নেয় মেয়েটা।কপাল দিয়ে চিকন ঘামগুলো তখনো ছিল। হ্যা, মেয়েটার মুখের হাসিটাও ছিল।
চারটা বিশে স্বামীর হাত ধরে লেকের পাশে বসে থাকার সময় ছেলেটার কপাল মুছে দিয়েছিল মেয়েটা।ছেলেটা স্বস্তায় ফুচকা দুই প্লেট নিতে পেরেছিল।সেই দুই প্লেট ফুচকা যত্ন করে খেয়েছিল তারা। এরপর এক গ্লাস পানি খেয়ে, ফুচকার দোকান থেকে পাওয়া টিস্যু দিয়েই কপাল মুছেছিল মেয়েটা। মেয়েটার ঘামে ভেজা চোখে তখনো হাসি ছিল।
শেষ বিকেলে যখন আলো নিভু নিভু করছিল, তখন মেয়েটা স্বামীর কাধে মাথা রেখেছিল। ছেলেটা তখন বউয়ের হাতের আঙুল নিয়ে খেলা করছে। আশেপাশের পরিবেশ যেমনি হোক, তাদের কাছে তখন ব্যাপারটা স্বর্গ এর মতন ছিল। মেয়েটার চোখে তখন পানি ছিল, টুপ করে পরা সেই পানিও হাসছিল।
সুখ আপনার কাছে, আপনি চাইলে সেই সুখ নিতে পারেন, নাহয় প্রচণ্ড চাহিদা নিয়ে সারাজীবন দুঃখই করে যাবেন। প্রত্যক দিবসের জন্যে আলাদা শাড়ি, দামি গাড়িতে করে ঘুরতে যাওয়া আর দামি রেস্টুরেন্ট এর খাবার আপনাকে সুখি করবেই, এমনটা বলা যায় না।
কক্সবাজার এর বিচের পাশে হানিমুন হাউজগুলোর রঙিন আলোয় সমুদ্র দেখে কাছের মানুষটার হাত ধরতে পারাও সুখ, লেকের পাশে স্বামীর কাধে মাথা রেখে লুকিয়ে কাঁদতে পারাও সুখ। চাহিদা আপনার, সুখ আপনার,,,,,
সিদ্ধান্তটাও আপনার।।

1 মন্তব্যসমূহ
Right 😂
উত্তরমুছুন