শেষ নবী - অধ্যায়ঃ ০৯

 

রাসুল (সঃ) প্রথমেই নিজের পরিবারের সবাইকে ইসলামের আওতাভুক্ত করলেন। এরপর তিনি আহ্ববান জানালেন তাঁর বন্ধুদের। তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে ইসলামের দাওয়াত দেন। অন্তরঙ্গ, দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন আবূ বকর। রাসুল (সঃ) তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন।
ঘটনা হল, আবূ বকর কোন চিন্তা-ভাবনা করল না, দ্বিধা কিংবা সংকোচ ছিল না। সাথে সাথে ইসলাম কবুল করলেন। রাসুল (সঃ) যার কাছেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন সে কিছুটা হলেও প্রথমে ইতস্তত করেছে, কিন্তু আবূ বকর একমাত্র মানুষ যিনি এক মুহূর্ত দেরি করেননি।
আবূ বকর সিদ্দিকি (রা) ছিলেন স্বাধীন এবং স্বতন্ত ব্যক্তি। কারো অনুগত ছিলেন না, কেউ তাকে প্রভাবিত করত না। তিনি কোন চাপ নিয়ে বা ঝোঁকের বসে ইসলাম গ্রহন করেননি। আবূ বকর সিদ্দিকি (রা) প্রথম পুরুষ যিনি ইসলামের দাওয়াতে, প্রচারে আত্বনিয়োগ করেন এবং রাসুল (সঃ) কে সাহায্য করেন।
তিনি রাসুল (সঃ) এর জন্য একটি বড় শক্তির উৎস ছিলেন। আলী (রা) তাঁর আগে ইসলাম কবুল করলেও তিনি ছিলেন দশ বছরের বালক, তাই তাঁর পক্ষে এত কিছু সম্ভব ছিল না।
আবূ বকর (রা) ছিলেন খুবই জ্ঞ্যানী ও হুঁশিয়ার । তিনি ছিলেন রাসুল (সঃ) এর সমবয়সী। মক্কার অনেক প্রভাবশালী, সম্ভ্রান্ত এবং প্রতিপত্তিসম্পন্ন লোকদের মধ্যে গন্য ছিলেন। তিনি কোন চাপ ছাড়া ইসলাম গ্রহন করেন এবং জনগনের মাঝে তা প্রকাশ করেন নির্ভয়ে। পূর্ণ তেরো বছর রাসুল (সঃ) এর সাথে থেকে ইসলামের জন্য সম্পদ, শক্তি সব কিছু বিলিয়ে দেন তিনি।
নিজের কাছের বন্ধুদের কাছে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তখন তাঁর বন্ধুদের মধ্যে; উসমান ইবনে আফফান, যুবায়র, আবদুর রহমান, তালহা, সা’দদের মত কুরাইশ বংশের সম্ভ্রান্ত লোকেরা ইসলাম গ্রহন করেন আবূ বকরের হাতে।
আবূ বকর সিদ্দিকি (রা) তাদের সবাইকে নিয়ে রাসুল (সঃ) এর দরবারে হাজির হন এবং সেখানে ইসলাম গ্রহন করেন এরপর একসাথে নামাজ পড়েন। এরপর ধীরে ধীরে ওমর (রা) এর বোন, আসমা, খাব্বাব, উমায়র সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহাবী ইসলাম গ্রহন করেন।
নামাজের সময় হলে রাসুল (সঃ) কোনো ঘাঁটি কিংবা উপত্যকায় গোপনে নামাজ আদায় করতেন। একবার রাসুল (স:) আর আলী (রা) একসাথে নামা জ পড়ছিলেন এক উপত্যকায়। আলী (রা) এর বাবা আবূ তালিব দেখে ফেলেন আর মুহাম্মদ (সঃ) কে জিজ্ঞেস করেন,
“ভাতিজা এটা কোন ধর্ম?” নবী মুহাম্মদ (সঃ) উত্তর দিলেন,
“চাচা! এটাই আল্লাহর দ্বীন, ফেরেশতাদের দ্বীন, নবীগনের দ্বীন; বিশেষ করে আমাদের পূর্বপুরুষ ইবরাহীম (আ) এর দ্বীন। আর আল্লাহ আমাকে তাঁর সব বান্দাদের প্রতি রাসুল বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। আপনি আমার নসীহতের সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত যে, আপনাকেই প্রথমে কল্যাণ ও হিদায়াতের প্রতি আহ্ববান জানাই। আপনারও কর্তব্য হল, আপনিই সর্বপ্রথম এ সত্য হিদায়াত ও দ্বীন গ্রহন করবেন এবং এ ব্যাপারে আমার সাহায্য ও সহায়তাকারী প্রমানীত হবেন”।
আবূ তালিব উত্তর দিলেন, “হে ভাতিজা। আমি বাপ দাদার ধর্ম ছাড়তে পারিনা। তবে এটুকু অবশ্যিই পাবে যে, তোমার কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবে না”।
এরপর তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন, “বেটা, এটা কেমন ধর্ম তুমি গ্রহন করেছ?” আলী (রা) উত্তর দিলেন,
“বাবা আমি আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি এবং তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তিনি আর যা কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন তা সত্যায়ন করছি। এর সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করি এবং এরই অনুগত ও অনুসারী”।
এবার আবূ তালিব বলনে, “খুব ভালো। তোমাকে কল্যাণ ও মঙ্গলের প্রতি আহবান করা হয়েছে এর সাহচর্য ত্যাগ করবে না”।
এরপর একদিন রাসুল (স:) এর সাথে আলী (রা) ইবাদত করছিলেন। আলী (রা) নবীর ডান পাশ্বে ছিলেন। পাশে পথ দিয়ে আবূ তালিব তাঁর আরেক পূত্র জাফরকে নিয় যাচ্ছিলেন। রাসুল (সঃ) কে দেখ আবূ তালিব বললেন, “বেটা, তুমিও আলীর মত তোমার চাচাত ভাইয়ের শক্তিশালী বাহুতে পরিণত হও, আর তাঁর বামপাশ্বে দাঁড়িয়ে নামাযে শরীক হও”।
জাফরও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন।
একটা সুন্দর ঘটনা দিয়ে আজকের অধ্যায় শেষ করি। আব্বাস (রা) এর একজন বন্ধুর নাম ছিল আফীফ কিন্দী। তিনি আতরের ব্যবসা করতেন। প্রায় তাকে ইয়েমেনে যেতে হত। একবার হযরত আব্বাসের সাথে মিনায় বসে ছিলেন তিনি। এসময় এক লোক এসে খুব ভালোভাবে অযূ করলেন এরপর নামাযের জন্য দাড়ালেন। এরপর একজন নারী আসলেন, একইভাবে অযূ করলেন আর নামাযে দাঁড়ালেন। এরপর ১১ বছর বয়সী এক বালক এসে একই কাজ করল। তিনি আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলেন,
“এটা কোন ধর্ম”?
আব্বাস (রা) উত্তর দিলেন, “এটা আমার ভাতিজা মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহর ধর্ম, যিনি বলেন আল্লাহ তাকে রাসুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন। এই বালক আলী আমার ভাতিজা। সে এই ধর্মের অনুসারী। নারী হলেন মুহাম্মদ এর স্ত্রী। আফিফা সব পর্যবেক্ষন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন। এরপর তিনি আফসোস করে বলেন,
“আহা! আমি যদি চতুর্থ মুসলমান হতে পারতাম”।

Best Blog In Bangladesh

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ