-“এ লোকদের মধ্যে পবিত্র মক্কা থেকে কেউ আছে ?”
-“আমি পবিত্র মক্কার বসবাসকারী”। তালহা উত্তর দিলেন।
-“আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রকাশিত হয়েছেন ?”
-কোন আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?”
-আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের পূত্র। এই মাস তার প্রকাশিত হবার মাস। মক্কা মুকাররামায় প্রকাশ পাবেন। একটি প্রস্তরময় খেজুর বাগানবিশিষ্ট স্থানের দিকে হিজরত করবেন। তিনিই শেষ নবী। দেখ, তুমি পিছিয়ে পড়ো না।
তালহা এই কথাগুলো শুনে তার মনে প্রভাব পড়ল।
তিনি মক্কায় ফিরে গেলেন এবং লোকজনকে জিজ্ঞেস করল নতুন কি ঘটেছে ? সবাই বলল আল-আমিন মুহাম্মদ নবূওয়াতের দাবী করেছেন এবং আবূ বকর তাকে সমর্থন করেছেন। তালহা জলদি আবূ বকরের কাছে হাজির হল এবং একসাথে মুহাম্মদ (সঃ) এর খিদমতে হাজির হলেন। তালহা (রা) ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন এবং এরপর দরবেশের ঘটনা বিস্তারিত মুহাম্মদকে (সঃ) জানালেন ।
এদিকে ওয়াক্কাস নামের এক ব্যক্তি রাতে স্বপ্নে দেখলেন ভীষন অন্ধকারের মধ্য আছে সে। হঠাত একটা চাঁদ উদিত হল, সে তার পিছে পিছে গিয়ে দেখল হারিসা, আলী এবং আবূ বকর ওই নূরের দিকে এগিয়ে গেছে। এই স্বপ্ন দেখার তিনদিন পর তিনি মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে যান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন।
স্বপ্ন দেখে ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন খালিদ (রা)। তিনি ছিলেন একদম প্রথম দিকের মুসলমান। তিনি স্বপ্নে দেখেন, একটা আগুনে ভরা গর্তের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার বাবা সাঈদ তাকে ধাক্কা দিয়ে সেই গর্তে ফেলার চেষ্টা করছিল। এসময় আল-আমিন মুহাম্মদ এসে তার কোমর ধরে সরিয়ে নিলেন। খালিদ ঘুম থেকে উঠে বলল, কসম; এই স্বপ্ন সত্য !
খালিদ আবূ বকরের কাছে গিয়ে ঘটনা বিস্তারিত ব্যখ্যা করল। আবূ বকর বললেন, “আল্লাহ তোমার জন্য মঙ্গলের ইচ্ছা করেছেন। আল্লাহর রাসুলের অনুসরন কর, ইসলাম কবুল কর। ইসলামই তোমাকে অগ্নি থেকে রক্ষ্যা করবে।“ খালিদ মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে গেল এবং ইসলাম কবুল করলেন। খালিদ (রা)এর পিতা সাঈদ ঘটনা শুনে তাকে মারলেন ।
তার মাথায় আঘাত হল এবং সাঈদ বলল, “মুহাম্মদ সমাজ বিরোধী। সে আমাদের উপাস্যদের খারাপ বলে”। খালিদ (রা) বললেন আল্লাহর কসম তিনি সত্য কথাই বলেন।
এই কথায় সাঈদের রাগ আরো বেড়ে গেল এবং সে তার পূত্রকে ঘর থেকে বের করে দিল। অন্য পূত্রদের সাবধান করে দিল, খালিদের সাথে কেউ সম্পর্ক রাখলে তাকেও বের করে দেয়া হবে। খালিদ (রা) মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে আশ্রয় নিলেন। মুহাম্মদ (সঃ) তাকে খুব সমীহ করতেন। একবার সাঈদের খুব অসুখ হয়।
সে প্রার্থনা করে যে তার অসুখ ভাল হলে সে মক্কায় মুহাম্মদের খোদার ইবাদত করতে দিবেনা। খালিদ এই কথা শুনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল তার বাবা যেন সুস্থ না হয়।
সাঈদ সেই রোগে মারা গেল।
Best Blog In Bangladesh

1 মন্তব্যসমূহ
Amin
উত্তরমুছুন