অসমাপ্ত হাসি

 


ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচারে ভ্রু কুঁচকে থাকা কোন মেয়ের ছবি দেখা যায়না... মেয়েটা দিয়েছিল । ভ্রু এর সাথে কপালটাও কুচকানো ছিল । জিজ্ঞেস করেছিলাম “এই ছবির মানে কি ?” উত্তর,
-‘সবাই যেন বুঝে আমি খুব গম্ভীর একটা মেয়ে, এই জন্যে’ ।
বাস্তবে কখনোই গম্ভীর নামের অসহ্য জিনিসটা ছিলনা তার মধ্যে । ‘ভাত খাইছি’ টাইপ সাধারন কথাতেও সে এক মিনিট হাসবে। মেয়েদের মতন শুধু হিহিহি টাইপ হাসি না। হোহোহো... হিহিহি টাইপ মন খোলা হাসি । হাসির শেষে চোখ মোছার দূশ্যটা আমি প্রায় কল্পনায় দেখতাম ।
এই মেয়ের স্বামী অসম্ভব ‘বিরক্তিকর আনন্দ’ নিয়ে জীবন কাটাবে।। ‘বিরক্তিটা’ হল... কোন কথার দুই লাইন পর মেয়েটা ‘খিকখিক করে হাসবে’।  ব্যাপারটা এমন; ত্রিশ লাইনের একটা ঘটনা বলতে হলে। বেচারা স্বামীকে ত্রিশ মিনিট অপেক্ষ্যা করতে হবে ।
পরিক্ষ্যার স্পেশাল প্রশ্নের মতন। হাসিটা বাধ্যতামূলক ।
‘আনন্দ’ হল।  প্রত্যকবার হাসির শেষ মুহূর্তে মেয়েটা চোখের পানি মুচবে। পানি মুচতে গিয়ে বলবে; ‘তারপর বল...’ । এই দূশ্যটা নিশ্চিতভাবেই আনন্দ দিবে ছেলেটাকে ।
আমি মেয়েটাকে প্রায় ‘বিরক্তিকর আনন্দের’ ব্যাপারটা বলতাম । প্রত্যাকবার মিনিট খানেক হেসে বলত... ‘কেউ আমার স্বামী হবে না... আমি বিয়েই করব না’ ।
-কেন ?
- জানিনা (হিহিহিহিহিহি...) ।
সাহস করে কখনও বলিনি ‘তুমি হ্যা বললেই কাল সকাল থেকে শখানেক পুরুষ তোমার বাবার কাছে হাজিরা দিবে। তোমাকেই পাওয়ার জন্যে’ । বলা হয়নি কখনও, বলাটা প্রয়োজন ছিল । কিছু কথা সময়েই বলতে হয়, পরে সুযোগ পাওয়া যায়না ।
আজ জোহরের পর জানাজা, আমাকে যেতেই হবে । বলতে হবে...

“ কেন’ এর উত্তরটা আমি পেয়েছি” ।।।
Best Blog in Bangladesh

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ