অনেকদিন ধরেই স্বপ্ন দেখছি প্রধানমন্ত্রী হব। কোন জেলায় যাবার আগে একমাস ধরে পুলিশ র্যাব আরামে দাড়াও সাবধান করতে করতে পায়ে ব্যথা করে ফেলবে, সেই ব্যথিত পা নিয়ে আমার সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকবে। স্কুলের বাচ্চারা বাংলা সাবান দিয়ে কাচানো পরিষ্কার সাদা শাট আর পেগাসাসের সাদা জুতা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে। রোদের মধ্যে তিন ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর, আমাকে দেখেই রোদে পোড়া লাল গালে হাসি ফুটবে। বাসায় গিয়ে গল্প করবে আমি তার দিকে তাকিয়ে হেসেছিলাম।
আজ সকালে লিস্ট করে ফেললাম, প্রধানমন্ত্রী হলে আমার করনীয় কি কি হবে। লিখা শেষে দেখি লম্বা লিস্ট, মিনিমাম ত্রিশ বছর লাগবে সব সখ পূরণ করতে। লিস্টের প্রথম কিছু অংশ,
১।বূষ্টির দিনে স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটি এবং অফিস শুরু হবে বেলা বারোটায়।সবাই মন ভরে ঘুমিয়ে আলসে ভেঙে বের হবে। কাপলরা সারারাত রোমান্স করে সকাল করে ঘুমাবে। বেশি সকাল কেউ অফিস করতে আসলেই চারমাসের বেতন জরিমানা।
২। বূষ্টির দুপুরে ভুনা খিচুড়ি রান্না বাধ্যতামূলক, সাথে ঝাল মাংস। যে রান্না করবে না তাকে ছয়মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।
৩। বাচ্চারা প্রতিদিন ১ ঘন্টা মাঠে না খেললেই ছয়মাস কোন, আইসক্রিম, চকলেট বা নতুন জামা দেয়া হবেনা।
৪। বাচ্চাদের কাদের ব্যগে এক কেজির বেশি বই থাকলে স্কুলের লাইসেন্স বাতিল।
৫।প্রত্যক বাঙালী ছেলেমেয়ের বছরে একবার মন খুলে বূষ্টিতে ভেজা বাধ্যতামূলক। অসুখ হলে চিকিৎসা সরকার দিবে।সবাই ভিডিও পাঠাবে যার ভিডিও সবচেয়ে ভাল লাগবে তাকে দেয়া হবে এক মাসের ভুনা খিচুড়িরর টাকা।
৬।প্রত্যক বাসার সামনে দুইটা করে নাড়িকেল গাছ থাকবে।গরমে সবাই ডাব পারবে আর আয়েশ করে পানি খাবে। কার ডাবের পানি বেশি মিষ্টি এই নিয়ে জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতা হবে, যে জিতবে তাকে ডাব কাটার জন্যে ধারাল 'দা' দেয়া হবে।
৭। মাদক কারো কাছে পাওয়া গেলে দুইদিন এক পা উঠিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকবে, আর খিদে পেলেই ঘাস খাওয়ানো হবে। শুধু ঘাস খেলে হবে না, ঘাস খেতে খেতে হাম্বা বলে ডাকতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ