তাজা প্রেম

অনেক্ষন গুনে আবিষ্কার করলাম মানুষটার আটটা দাঁত অবশিষ্ট আছে। সত্তর বছরের বূদ্ধের কাছে এর বেশি আশা করা যায়না। দেখা হয়েছিল চট্টগ্রাম স্টার লাইন কাউন্টারে। বাসের জন্যে অপেক্ষ্যা করছিলাম আমরা গুটিকয়েক মানুষ।
বাসের সময় সমস্যা নিয়ে চিৎকার করছিলেন কাউন্টারে।তার শালার একটা নিজস্ব বাস আছে গল্প করতে করতে একসময় বিয়ের গল্প শুরু করলেন।
বুড়ো মানুষরা বিরক্তিকর, কথাট মিথ্যা সেদিন বুঝলাম। মানুষটা গল্প করছে আমরা হা করে শুনছি। কিছুক্ষণ আগে পাশে বসে তুমুল ঝগড়া করা স্বামী স্ত্রী ঝগড়া থামিয়ে গল্প শুনছেন।
মানুষটার চৌদ্ধ বছর বয়সে বিয়ে হয়, বউ বাড়ির চাচাতো বোন। বয়স এগারো!! আসলেই হা করে শোনার মতন গল্প,,,,,,
বিয়ের পর এদের প্রধান কাজ ছিল লুকোচুরি খেলা। সংসার কি জিনিস বুঝতে পারেনি। মেয়েটা চোখে হাত দিয়ে এক থেকে বিশ পর্যন্ত গুনবে, ছেলেটা গিয়ে লুকোবে ধানের গোলা বা সিন্ধুকের ছিপায়; এটাই ছিল তাদের মিষ্টি সংসার।
এই ধানের ঘোলায় লুকোতে গিয়েই, হাত ধরা, মায়া ভরা হাসির প্রেমে পরা, ভালোবাসা, প্রনয় এবং সন্তান।
অসম্ভব ভালোলাগা এই গল্পের শেষে দেখি, কিছুক্ষণ আগে বাস কাউন্টারে স্ত্রীকে বকতে থাকা স্বামীর চোখে পানি। বেচারা নিশ্চিত তার স্ত্রীকে অসম্ভব ভালোবাসে।।
খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
- কোথায় যাচ্ছেন? পিচ্ছি মেয়েটার কাছে?
-ছেলেরা শহরে নিয়ে আসে, মন টিকেনা। মন থাকে পিচ্ছি মেয়েটার কাছে। তার আশেপাশেই থাকতে ইচ্ছে করে।
- দাদী গ্রামে একা থাকেন?
-লুকোচুরি খেলতে খেলতে মেয়েটা একদিন লুকিয়ে যায়। ধানের ঘোলা, আলমারির পিছনে, সিন্ধুকের ছিপায় অনেক খুজেছি। পাইনি,
-ওহ,
-মেয়েটা বোধহয় একেবারেই লুকিয়ে গেছে।।।
Best Blog in Bangladesh

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ