শেষ নবী- অধ্য়ায়ঃ ০১



মক্কায় দূর্বিক্ষ দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে মক্কাবাসী শারীরিক এবং মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এই সময় কুরাইশ বংশের একজন ঝোলের মধ্যে রুটি টুকরো করে সবাইকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন।
অত্যান্ত দানশীল এই কুরাইশ বংশের যুবকের দস্তরখানকে প্রসস্ত বলা হত। সুঠামদেহী এবং সৌন্দর্যের অধিকারী এই যুবকের কপালে নবূওয়াতের নূর চমকাতো । তখনকার সময়ের বনী ইসরাঈলের আলেমগন তাকে দেখলেই সিজদায় লুটিয়ে পড়তো, তাঁর হাতে চুমু খেত।
প্রচন্ড দূর্ভিক্ষের সময় মক্কাবাসীকে ঝোলের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে খাওয়ানো এই মানুষটার নাম হাশিম। আরবের বড় বড় গোত্রগুলো এবং বনী ইসরাঈলের আলেমরা তাদের কন্যাদের হাশিমের কাছে নিয়ে আসত বিয়ে করার জন্য। রোম সম্রাট খবর পেলেন এই যুবকের, তিনি চিঠি লিখলেন হাশিমের জন্য;
“আপনার শ্রেষ্ঠত্ব এবং ঔদার্যের খবর আমার কাছে পৌঁছেছে, আমি অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারিণী আমার শাহজাদীকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে পোষন করছি”।
সমস্যা হল রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের চোখ ছিল নবুওয়াতের নূরের উপর, যেটা হাশিমের কপালে চমকাত । হাশিম ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত একজন যুবক। তিনি সম্রাটের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন। তখনকার সময়ে হজ্জ্বে আসা সবাইকে হাশিম নানান ধরনের আরবের খাবার খাওয়াতেন। তাঁর দানের গল্প যখন চারদিকে ছড়াতে শুরু করে তখন অনেক গোত্রের সম্পদশালী মানুষ দান করে সবার নজরে আসার চেষ্টা করতেন। কিন্তু, হাশিমের সম্পদের কাছে তারা কিছুই না।
বানিজ্য কাফেলায় একবার হাশিম মদিনা মুনাওয়ারায় যাত্রাবিরতি নেন। অভিজাত্য, বুদ্ধিমত্তার ছাপ নিয়ে থাকা এক নারীকে লক্ষ্য করেন তিনি। খোজ নিয়ে জানা গেল তাঁর ডিভোর্স হয়ে গেছে। হাশিম সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব করেন সেই নারীকে । হাশিমের মধ্যে আত্বসম্মান এবং আভিজ্যের প্রকাশ ছিল, যা সহজেই লক্ষ করা যেত। সালমা নামের সেই নারীও হাশিমের প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেলেন।
বিয়ের পর হাশিম অনেকদিন মদিনায় অবস্থান করেন, যেখানে তাঁর একটি পূত্র সন্তান হয়। কিন্তু ততদিনে হাশিমের বয়স শেষ হয়ে এসেছিল, মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে কুরাইশ বংশের গর্ব হাশিম ইন্তেকাল করেন। তাঁর পূত্র সন্তানের জন্মের সময় মাথায় ছিল শুধুমাত্র একটা সাদা চুল। এই জন্য তাঁর নাম রাখা হয় শায়বা অর্থ্যাত বৃদ্ধ ।
হাশিম ইন্তেকাল করায় শায়বার মক্কায় যাওয়া হয়নি, যেখানে ছিল তাঁর বাবার আধিত্য । হাশিমের ভাই মুত্তালিব কিছু বছর পর শায়বাকে নিয়ে মক্কা চলে আসেন। চাচা আর ভাতিজা উটের পিঠে করে যখন মক্কার গেটে ঢুকছিলেন তখন মানুষ জিজ্ঞেস করলে এই বালক কে? মুত্তালিব বললেন, এটি আমার গোলাম। তখন থেকে তাঁর নাম ছড়িয়ে যায়, আবদুল মুত্তালিব হিসেবে। এই কথা বলার পেছনে যুক্তি হল শায়াবা-এর গায়ের জামা তখন নোংরা এবং চেহারা মলিন ছিল। তিনি মক্কায় পৌছে শায়বা-এর জন্য নতুন পোশাক বানিয়ে তাকে সুন্দর করে প্রকাশ করলেন কুরাইশ বংশে;
-“এটা আমার ভাতিজা”।
বলা হত কুরাইশদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিব (শায়বা) সবচেয়ে সুন্দর সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী ছিলেন । তাঁর ধৈর্য ও সহ্যশক্তির অধিকারী শায়বা ছিলেন দয়ালু । তিনি খারাপ কাজ কিংবা ঝামেলা থেকে বেশি দূরে অবস্থানকারী ছিলেন।
অল্পদিনেই তিনি কুরাইশদের মনোনীত নেতা হয়ে যান । তিনি তাঁর পিতা হাশিমের চেয়ে বেশি দান করতেন। তখনকার সময় মধ্যপান করা আভিজাত্য থাকলেও তিনি মধ্যপানকে নিজের জন্য হারাম করে নেন। তিনি নিরিবিলি ইবাদত করার জন্য একটা গুহায় ইবাদত শুরু করেন, সেই গুহার নাম হেরা গুহা। হ্যাঁ,
সর্ব প্রথম আবদুল মুত্তালিব হেরা গুহায় ইবাদত শুরু করেন।
Best Blog in Bangladesh

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ