শেষ নবী (অধ্যায়ঃ ০৪)


হালীমা যখন শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে গ্রামে রওনা দিলেন, তখন দুর্বল উটটি বিদ্যুৎ গতিতে এগুচ্ছিল। সে এখন নবীর বাহন । সবাই অবাক হয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হালিমাকে জিজ্ঞেস করল, “হালিমা এটা কি আগের সওয়ারী?” তারা বনী সা’দ গোত্রে পৌছানোর পর ঘটনা বাড়তে লাগল। তখন সেই গ্রামে দুর্ভিক্ষ ছিল ।
কিন্তু, হালিমার বকরী চারণভূমি থেকে তাজা হয়ে ফিরে এল। তাদের থেকে প্রচুর দুধ পাওয়া গেল। অন্যান্য পরিবারের বকরী ছিল শুষ্ক ও ক্ষুধার্ত । সবাই সিদ্ধান্ত নিল হালিমার বকরীগুলো যে মাঠে যায়, সেখানে তাদের বকরীও নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু, দুর্ভিক্ষ কাটছিল না। মুহাম্মদের বয়স দুই বছর হলে দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। হালিমার কাজ শেষ, এখন ত তাকে তাঁর আম্মাজানের কাছে দিয়ে আসতে হবে।
হালিমা শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে গেলেন মা আমিনার কাছে। গিয়ে আবদার করে বসলেন আরো কিছুদিন যেন তাঁর কাছে রাখা হয়। তিনি শিশু মুহাম্মদ আসার পর তাঁর ঘরের বরকতের কথা খুলে বললেন। হালিমার অসাধারণ আগ্রহ দেখে মা আমিনা আরো কিছুদিন রাখতে দিলেন। হালিমা আনন্দ নিয়ে নবী মুহাম্মদকে নিয়ে ফিরে এলেন নিজ গ্রামে। কয়েকমাস পর নবীও তাঁর দুধ ভাইদের সাথে জংগলে বকরী চরানো শুরু করলেন।
চার বছর বয়সে একদিন দুধ ভাইরা নবী মুহাম্মদের সাথে জংগলে বকরী চড়াচ্ছিলেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই দুধ ভাইয়েরা হালিমার কাছে এসে জানালো তাদের কুরাইশ ভাইকে সাদা পোশাকধারী দুজন লোক মাটিতে ফেলে পেট চিরে ফেলেছে, এখন আবার সেলাই করে দিচ্ছে। ঘটনা শুনে হালিমা ও তাঁর স্বামী দিশেহারা হয়ে সেখানে গেলেন। নবী মুহাম্মদ তাঁর পবিত্র চেহারা ফ্যাকাসে করে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হালিমা এবং তাঁর স্বামী তাকে বুকে টেনে নিল।
ঘটনা ছিল দুজন ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল ও হযরত মিকাঈল (আ) সাদা পোশাকধারী মানুষের বেশে একটি বরফে ভর্তি স্বর্ণের তশতরি নিয়ে আসেন এবং তাঁর পেট চিরে পবিত্র কলব বের করেন। এরপর তা ফাড়েন ও ভেতর থেকে এক অথবা দুই টুকরা জমাট রক্ত বের করে ওই তশতরির বরফে পেট ও কলব ধুয়ে দেন। এই টুকরো ছিল শয়তান প্রভাবিত, যা পাপ ও অন্যায় কাজে প্রবণতার উৎস তৈরী করে। এটি ধুয়ে পরে তা যথাস্থানে রেখে সেলাই করে দেন এবং দু বাহুর মাঝখানে একটি মোহর অংকিত করে দেন।
এরকম ঘটনা মোট হয়েছিল চারবার। দ্বিতীয়বার মুহাম্মদের ১০ বছর বয়সে; যেন তাঁর পবিত্র কলব অপেক্ষাকৃত শুল কর্ম খেল-তামাশার আকর্ষণ থেকে পবিত্র থাকে। খেল-তামাশা আল্লাহর স্বরণ থেকে অমনোযোগী করে। তৃতীয়বার, নবূওয়াতের আগে; যেন পবিত্র কলব ওহীর রহস্য ও আল্লাহর ইলম গ্রহণ ও বহনে সক্ষম হয় । চতুর্থবার মিরাজের সময়; যেন ফেরশতা জগতে ভ্রমণ, আল্লাহর তাজাল্লী-নির্দশন পর্যবেক্ষন ও আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ হৃদয়জ্ঞম করার ক্ষমতার অধিকারী হয়।
প্রথমবার বক্ষ বিধারনের পর হালিমা ভাবলেন, এ শিশুকে কোন ব্যাথা দেয়া চলবে না। তিনি মুহাম্মদ কে নিয়ে মক্কায় মা আমিনার কাছে গেলেন, সব কথা খুলে বললেন। আমিনা খুব একটা বিস্মিত হলেন না, পেটে থাকা থেকে শুরু করে জন্মের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা স্বরণ করে বললেন,
“আমার এ পূত্রের মর্যাদা খুব বেশি হবে, জন্ম থেকেই তাঁর প্রতি শয়তানের দৃষ্টি পড়েছিল। তুমি নিশ্চিন্ত থাক, একে কোন বিপদ স্পর্শ করতে পারবে না” ।
হালিমা নিজ ঘরে ফিরলেন, এবার একা। শিশু মুহাম্মদ তাঁর আম্মাজানের কাছেই রয়ে গেল।
ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ তাঁর মায়ের সাথে মদীনায় গেলেন। এক মাস মদীনায় বিভিন্ন আত্বীয়-স্বজনের সাথে থাকলেন। এরপর আবার মক্কায় যাত্রা শুরু করলেন। পথের মধ্যে আবওয়া নামের এক জায়গায় মা আমিনা ইন্তেকাল করেন। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। নবী মুহাম্মদ জন্মের আগে বাবাকে হারালেন, মায়ের সাথে বেশিদিন থাকা হয়ে উঠেনি তাঁর।
মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিপূর্ণ এতিম শিশু হয়ে গেলেন আমাদের নবী ।
Best Blog in Bangladesh

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ